Xiaomi Redmi Note 7 Mobile Phone Review

Xiaomi Redmi Note 7 Mobile Phone Review

শাওমি মানেই কম দামে ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের স্মার্টফোনের স্বাদ। অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো। আর স্মার্টফোনটি যদি হয় রেডমি সিরিজের তাহলে তো মধ্যবিত্ত স্মার্টফোন ক্রেতাদের সোনায় সোহাগা। কারণ শাওমি তাদের রেডমি সিরিজকে মার্কেটে এনেছে শুধুমাত্র এন্ট্রি এবং মিড লেভেলের মার্কেট দখল করার জন্য। আর সেই মার্কেট দখলে রাখতে তারা প্রতিনিয়তই নিয়ে আসছে নতুন নতুন মোবাইল।

২০১৮ সালে যেখানে স্মার্টফোন কোম্পানীগুলো দেখিয়েছে নচের বাহার, সেখানে ২০১৯ সালে সে প্রতিযোগীতা গড়িয়েছে ক্যামেরাতে। শাওমি থেকে ওয়ান প্লাস, সবাই দৌড়িয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরায়। ২০১৯ সালে শাওমি যতগুলো মোবাইল ফোন মার্কেটে নিয়ে এসেছে তাদের ম্যাক্সিমামই ছিল ৪৮ মেগাপিক্সেল সম্পন্ন ক্ষমতার অধিকারী। এদের মধ্যে মার্কেট কাঁপানো অন্যতম স্মার্টফোন হচ্ছে শাওমির রেডমি নোট ৭। আমাদের আজকের আলোচনা জুড়ে এই মোবাইলটির বিস্তারিত।

ফিচারস

  • নেটওয়ার্ক: GSM / HSPA / LTE
  • ওজন: ১৮৬ গ্রাম (৬.৫৬ আউন্স)
  • সিম স্লট: হাইব্রিড ডুয়াল সিম (ন্যানো)
  • ডিসপ্লে: আইপিএস এলসিডি
  • প্রসেসর: কোয়ালকম এসডিএম ৬৬০ স্ন্যাপড্রাগন ৬৬০ (১৪ ন্যানোমিটার)
  • গ্রাফিক্স: অ্যাড্রেনো ৫২০
  • অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন: অ্যান্ড্রয়েড ৯ (পাই)
  • রিয়ার ক্যামেরা: ডুয়াল ক্যামেরা। ৪৮ মেগাপিক্সেল এবং ৫ মেগাপিক্সেল
  • ফ্রন্ট ক্যামেরা: ১৩ মেগাপিক্সেল
  • ব্যাটারি: ৪০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার

ভ্যারিয়েন্ট

স্পেইস ব্ল্যাক, নেপচুন ব্লু এবং নেবুলা রেড, এই তিনটা ভিন্ন ভিন্ন রঙের ৩টি ভ্যারিয়েন্ট অফিসিয়ালি বাংলাদেশে পাওয়া যাচ্ছে। ভ্যারিয়েন্টগুলোর মধ্যে ৩ জিবি র‍্যাম ও ৩২ জিবি রম – যার দাম ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৯৯৯ টাকা, ৪ জিবি র‍্যাম ও ৬৪ জিবি রম – যারা দাম ১৯ হাজার ৯৯৯ টাকা এবং ৪ জিবি র‍্যাম ও ১২৮ জিবি রম – যার দাম ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৯৯৯ টাকা।

ডিজাইন

ডিজাইনের দিক থেকে শাওমির রেডমি নোট সিক্স প্রো এর সাথে এর তেমন একটা পার্থক্য নেই। কিন্তু পেছনে ব্যবহার করা গ্লাস প্যানেল আর তিনটি ভিন্ন রঙের বৈচিত্র্য একে অনেকটাই প্রিমিয়াম লুক দিতে সক্ষম হয়েছে। পেছনের গ্লাস ব্যাকের সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে কর্নিং গরিলা গ্লাস ৫। সাইডের দিকে প্লাস্টিক ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হলেও সেটি তেমন একটি টের পাওয়া যায়না। আর পি টু আই ন্যানো কোটিংয়ের ফলে মোবাইলটি হয়ে উঠেছে সম্পূর্ণ স্প্ল্যাশ প্রুফ।

৬.৩ ইঞ্চি সাইজের এই মোবাইলটির ওজন প্রায় ১৮৬ গ্রাম। তবে দেখতে লম্বাটে হলেও বডি কিছুটা স্লিম হওয়ায় সহজেই গ্রিপ পাবেন ব্যবহারকারিরা। মোবাইলটির ডানদিকে থাকছে ভলিউম বাটন এবং পাওয়ার বাটন। বামদিকে থাকছে সিম ট্রে, যেখানে আপনি একসাথে দুইটি ন্যানো সিম কিংবা একটি ন্যানো সিম ও একটি মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। 

উপরের দিকে থাকছে ৩.৫ মিলিমিটার এয়ারফোন পোর্ট এবং নিচের দিকে থাকছে টাইপ সি পোর্ট ও স্পিকার। শাওমি রেডমি নোট সেভেনের মধ্যে দিয়েই তাদের বাজেট লেভেলের মোবাইলে টাইপ সি পোর্ট দেয়া শুরু করেছে। উপরের দিকে থাকছে আইআর ব্লাস্টারও। ফলে আপনি এটি দ্বারা টিভি, এসিও কন্ট্রোল করতে পারবেন।

ডিসপ্লে সেকশনের উপরের দিকে থাকছে একটি ডিউড্রপ নচ যেখানে থাকবে সেলফি ক্যামেরা। আইপিএস এলসিডি প্যানেল ব্যবহার করা হলেও দেয়া হয়েছে ২৩৪০ x ১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশনের ফুল এইচডি প্লাস ডিসপ্লে। ৪৫০ নিটসের হাই ব্রাইটনেস থাকার সুবাদে আপনি এটিকে সরাসরি সূর্যের আলোর নিচে ব্যবহার করতেও তেমন একটা অসুবিধা বোধ করবেন না। এছাড়াও সফটওয়্যার টুইকের সাহায্যে কন্ট্রাস্ট এবং কালার টেম্পারেচার কন্ট্রোল করা সুবিধা তো থাকছেই। 

পেছনের দিকে কর্ণারে থাকছে ডুয়াল ক্যামেরা এবং তাদের নিচে একটি এলইডি ফ্ল্যাশ লাইট। আর থাকছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার।

সফটওয়্যার

রেডমি নোট সেভেনে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে থাকছে অ্যান্ড্রয়েড ৯ পাই। তবে এটিকে অ্যান্ড্রয়েড ১০ এ আপডেট করা যাবে। আর ইউজার ইন্টারফেসে হিসেবে শাওমির সব মোবাইলের মতো এতেও থাকছে মিআইইউআই ১২।

স্পেসিফিকেশন

এতে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ৬৬০ প্রসেসর যেটি একটি অক্টাকোর প্রসেসর এবং ১৪ ন্যানো মিটার আর্কিটেকচার প্রযুক্তিতে তৈরি। এটি রেডমি নোট সেভেন প্রোতে ব্যবহার করা স্ন্যাপড্রাগন ৬৬৫ এর মতো শক্তিশালী না হলেও মিড বাজেটের রেঞ্জে যথেষ্ট শক্তিশালী একটি প্রসেসর। এআইই প্রযুক্তি সম্পন্ন এই প্রসেসরের প্রথম চারটি ২.২ গিগাহার্জ ক্লক স্পিডের ক্রায়ো ২৬০ গোল্ড কোর, পরের চারটি কোর ১.৮ গিগাহার্জ ক্লকস্পিডের ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রায়ো ২৬০ সিলভার কোর। সাথে থাকছে অ্যাড্রেনো ৫১২ জিপিউ চিপসেট যেটি ৮৫০ মেগাহার্জ ক্ষমতাসম্পন্ন।

মোট ৩টি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাওয়া এই মোবাইলটিতে দেয়া হয়েছে লিথিয়াম পলিমারের নন রিমুভাল ৪০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি।

কমিউনিকেশনের জন্য থাকছে ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াইফাই, ব্লুটুথ ৫.০, জিপিএস। সেন্সর সেকশনে থাকছে জাইরোস্কোপ, এক্সেলেরোমিটার, প্রক্সিমিটি সেন্সর, ইলেকট্রিক কম্পাস এবং এমবিয়েন্ট লাইট সেন্সর।

পারফরম্যান্স

পারফরম্যান্স

কোয়ালকমের সুনাম তাদের মোবাইল ইউজার ফ্রেন্ডলি চিপসেটের জন্য। স্ন্যাপড্রাগন ৬৬০ প্রসেসরও তার বাইরে নয়। ডে টু ডে টাস্কের জন্য বেশ উপযোগী সেন্সরটি। দৈনন্দিন মাল্টিটাস্কিংয়ের পাশাপাশি গেমিং ও করা যাবে এই স্মার্টফোনটি দিয়ে। পাবজি মোবাইলের মতো গেইমও খেলা যাবি খুব স্মুথলি, কোনো ল্যাগিংস ছাড়াই। আর একটানা ব্যবহারে মোবাইল তেমন গরমও হয় না। অ্যান্টুটু বেঞ্চমার্কে রেডমি নোট সেভেনের স্কোর ১৮০৮০৮ যা অনেক ভালো একটি স্কোর। জিএফেক্স বেঞ্চে তুলেছে ৭.৭ এফিপিএস।

সাথে থাকা ৪০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি দিয়ে পাওয়া যাবে প্রায় দুই দিনের মতো ব্যাটারি ব্যাকাপ। কলিং স্ট্যান্ডবাই পাচ্ছেন ২১ ঘণ্টা, একটানা মিউজিকে পাবেন ১৩ ঘণ্টা এবং একটানা গেমিং এ পাবেন ৭ ঘণ্টার মতো ব্যাকাপ। আর বক্সের সাথেই পাচ্ছেন ১৮ ওয়াটের ফার্স্ট চার্জার ভার্সন ৪.০। ফলে খুব দ্রুতই চার্জ করে ফেলতে পারবেন মোবাইলটি।

ক্যামেরা

ক্যামেরা

৪৮ মেগাপিক্সেলের প্রাইমারি রিয়ার ক্যামেরা রয়েছে এতে। যেখানে ব্যবহার করা হয়েছে সনির আইএমএক্স সেন্সর। কিন্তু অটো মোডে সর্বোচ্চ ১২ মেগাপিক্সেলের মতো ব্যবহারের সুবিধা পাওয়া যাবে। ৪৮ মেগাপিক্সেলের সুবিধা নিতে চাইলে ব্যবহার করতে হবে ম্যানুয়াল ক্যামেরা। ১.৮ অ্যাপার্চার ক্ষমতা সম্পন্ন এই ক্যামেরা কাজ করবে ওয়াইড অ্যাংগেল ক্যামেরা হিসেবেও। আর সাথে থাকছে ২.২ অ্যাপার্চার ক্ষমতাসম্পন্ন ৫ মেগাপিক্সেলের ডেপথ সেন্সর।

শাওমির স্মার্টফোনের ক্যামেরাগুলোর সুবিধা হলো দিনের বেলা কিংবা উজ্জ্বল আলোতে এইসব ক্যামেরা বেশ ভালোই পারফরম্যান্স দেখায়। এখানেও ব্যতিক্রম ঘটেনি। তবে নাইট মোড থাকার ফলে রাতের বেলাও পাওয়া যাবে বেশ ভালো ছবি।

সামনে থাকা ১৩ মেগা পিক্সেলের সেলফি ক্যামেরার অ্যাপার্চার ২.০। ক্যামেরা সেকশনে ফিচার হিসেবে পাচ্ছেন এ আই সিন ডিটেকশন, প্যানোরোমা, স্কয়ার, পোট্রেইট এবং প্রো এর মতো স্ট্যান্ডার্ড শুটিং মোড। রিয়ার ক্যামেরা দিয়ে আপনি ১২০ এফপিএসে ১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশনে করতে পারবেন ভিডিও রেকর্ডিং। আর সামনের ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা দিয়ে ১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশনে ৩০ এফপিএসে করতে পারবেন ভিডিও রেকর্ডিং।

আমাদের মন্তব্য

শাওমির রেডমি সিরিজের স্মার্টফোন মানেই সাধ্যের মধ্যে সবটুকু সুখ। শাওমি তাদের রেডমি নোট সেভেনেও সেই বৈশিষ্ঠ্যই ধরে রাখতে চেষ্টা করেছে। তবে এই বাজেটে শাওমির রেডমি নোট সেভেনের পাশাপাশি বাজারে রয়েছে আসুসের জেনফোন ম্যাক্স প্রো এম ২। তবে পারফরম্যান্সের দিক দিয়ে একে ভ্যালু ফর মানি বলা যেতেই পারে।

Leave a comment