Xiaomi Poco C3 Mobile Phone Review

Xiaomi Poco C3 Mobile Phone Review

প্রতিযোগিতার দিক দিয়ে মেইন্সট্রিম কিংবা মিড বাজেটের স্মার্টফোন মার্কেটের তুলনায় এন্ট্রি বাজেটের স্মার্টফোনের মার্কেট বরাবরই এগিয়ে। কারণ এই বাজেটে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো এমন সব ফিচারের মোবাইল হাতের নাগালে নিয়ে আসছে যেগুলো আপনার কাঙ্খিত চাহিদা অনেকাংশেই পূরণ করতে সক্ষম। আজকে আমরা কথা বলব শাওমির সাবব্র্যান্ড পোকোর রিলিজকৃত এন্ট্রি লেভেলের স্মার্ট ফোন পোকো সি থ্রি’কে নিয়ে।

মাত্র ১১,৯৯৯ টাকায় পোকো আপনাকে দিচ্ছে বিশাল স্ক্রিন, শক্তিশালী ৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি, ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা এবং ভালো গেমিং এক্সপেরিয়েন্স। মূলত মার্কেটে থাকা রিয়েলমি সি ১১ এবং রেডমি ৯এ এর শক্ত প্রতিদ্বন্দী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পোকো সি থ্রি স্মার্টফোনটি। চলুন তাহলে দেখে আসা যাক এই বাজেটে পোকো যেসব ফিচার নিয়ে এসেছে সেগুলো তাদের প্রতিদ্বন্দীকে হারাতে পারে কিনা।

ফিচারস

  • নেটওয়ার্ক: থ্রি ও ফোরজি সাপোর্টেড।
  • ওজন: ১৯৪ গ্রাম।
  • সিম স্লট: ডুয়াল ন্যানো সিম, সাথে থাকছে মেমোরি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা।
  • ডিসপ্লে: আইপিএস এলসিডি মনিটর, এইচডি প্লাস রেজুলেশন।
  • প্রসেসর: মিডিয়াটেক হেলিও জি ৩৫।
  • গ্রাফিক্স: পাওয়ার ভিআর GE8320
  • অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন: অ্যান্ড্রয়েড ১০।
  • রিয়ার ক্যামেরা: ট্রিপল, ১৩ মেগাপিক্সেল, ২ মেগাপিক্সেল, ২ মেগাপিক্সেল।
  • ফ্রন্ট ক্যামেরা: ৫ মেগাপিক্সেল।
  • ব্যাটারি: ৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার।

বক্স

পোকোর সাধারণ মোবাইলগুলোর বক্স হয় কালো কালারের এবং সেখানে ব্যবহার করা হয় হলু্দ রঙের ফন্ট। কিন্তু পোকো সি থ্রি কিছুটা ব্যতিক্রম। এটি থাকছে হলুদ রঙের বক্সে এবং ব্যবহার করা হয়েছে কালো রঙের ফন্ট। বক্সের ভেতরে আপনি পাবেন পলিথিনে মোড়ানো পোকো সি থ্রি হ্যান্ডসেট, ১০ওয়াটের একটি চার্জার, মাইক্রো ইউএসবি কেবল, সিম স্লট ইজেক্টর টুল এবং একটি ইউজার গাইডলাইন ডকুমেন্ট।

ভ্যারিয়েন্ট

আর্কটিক ব্লু, লাইম গ্রিন ও ম্যাট ব্ল্যাক এই তিনটি রঙের দুইটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে পোকোর এই স্মার্টফোনটি। ভ্যারিয়েন্ট দুটি হচ্ছে ৩ জিবি র‍্যাম ও ৩২ জিবি রম এবং ৪ জিবি র‍্যাম ও ৬৪ রম।

ডিজাইন

মোটামুটি বড়সড় আকারেরই মোবাইল পোকো সি থ্রি। ৯ মিলিমিটার থিকনেসের এই মোবাইলের ওজন প্রায় ১৯৪ গ্রাম। ফলে যাদের হাতের আকার ছোট তাদের মোটামুটি ভালোই বেগ পেতে হবে এক হাতে এই মোবাইলটিকে চালাতে। কিন্তু এর বিল্ড কোয়ালিটি অনেক উন্নতমানের বলেই মতামত দিয়েছেন এর ব্যবহারকারিরা। মোবাইলটি সম্পূর্ণ প্লাস্টিক বডিতে তৈরি এবং চারদিকে রয়েছে রাউন্ড এজ। পোকো দাবি করেছে তারা এই মোবাইলে ‘পি টু আই কোটিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে যেটি এর পেছনের অংশকে পানিপ্রতিরোধক করে তুলেছে। পোকো তার অন্যান্য মোবাইলের মতো এর পেছনেও ব্যবহার করেছে ডাবল ডিজাইন থিম। পেছনের অংশে টেক্সচার থাকার ফলে ব্যবহারকারিরা ভালো গ্রিপ পাবেন এবং মোবাইলটি সহজে হাত থেকে পিছলে পড়ে যাবে না।

ডান দিকে থাকছে পর্যায়ক্রমে ভলিউম বাটন এবং পাওয়ার বাটন। উপরের দিকে থাকছে ৩ মিলিমিটার হেডফোন পোর্ট, নিচের দিকে পাচ্ছেন মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট। এই মোবাইলটিতে আপনি একসাথে দুইটি ন্যানো সিম এবং একটি মাইক্রো ইউএসবি কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু এই মোবাইলটিতে আপনি কোনো ধরনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর পাবেন না, তবে ফেইস আনলকিং সুবিধা থাকছে।

ডিসপ্লেতে থাকছে এইচডি প্লাস রেজুলেশনের ৬.৫৩ ইঞ্চি আইপিএস এলসিডি প্যানেল। স্ক্রিন প্রটেকটর হিসেবে পোকো ব্যবহার করেছে পান্ডা গ্লাস। ডিসপ্লের উপরের দিকে থাকছে একটি ওয়াটার ড্রপ নচ, যেখানে রয়েছে সেলফি ক্যামেরা।

সফটওয়্যার

পোকো সি থ্রি এন্ড্রয়েড ভার্সন ১০ সাপোর্টেড একটি স্মার্টফোন। এতে ইউজার ইন্টারফেস হিসেবেন থাকছে শাওমির বহুল পরিচিত MIUI এর সর্বশেষ ভার্সন MIUI12। প্রিইন্সটল হিসেবে শাওমির বিভিন্ন নেটিভ অ্যাপস। পোকো নিশ্চিত করেছে তারা এই স্মার্টফোনে কোনো ধরনের প্রমোশনাল বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবে না।

স্পেসিফিকেশন

এন্ট্রি লেভেলের এই স্মার্টফোনে পোকো ব্যবহার করেছে মিডিয়াটেকের হেলিও G35 12 ন্যানোমিটার আর্কিটেকচারে তৈরি চিপসেট, যেটিকে লো বাজেটের গেমিং চিপসেটও বলা হয়। এটি একটি অক্টা-কোর প্রসেসর যার প্রথম চারটি কোর 2.3 গিগাহার্টজ কর্টেক্স-এ 53 এবং পরের চারটি কোর 1.8 গিগাহার্টজ কর্টেক্স-এ53। জিপিইউ হিসেবে এই মোবাইলে থাকছে পাওয়ারভিআর GE8320। মিডিয়াটেকের এই চিপসেটটি রিয়েলমিও তাদের সি১১ স্মার্টফোনে ব্যবহার করেছে।

পোকো সি থ্রি এর ৩ জিবি র‍্যাম এবং ৩২ জিবি র‍্যামের ভ্যারিয়েন্টের দাম ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৯৯৯টাকা। এর ৪ জিবি র‍্যাম ও ৬৪ জিবি রমের ভ্যারিয়েন্টের দাম রাখা হয়েছে ১২ হাজার ৯৯৯ টাকা। নেটওয়ার্কিং ফিচার হিসেবে থাকছে dual-4G VoLTE, Wi-Fi n, ব্লুটুথ ৫, জিপিএস এবং এফ এম রেডিও। তবে Gyroscope ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর না থাকলেও থাকছে Accelerometer ও proximity সেন্সর। এই মোবাইলটিতে কোনো ধরণের নোটিফিকেশন লাইট থাকছে না।

পারফরম্যান্স

পারফরম্যান্স

এন্ট্রি বাজেটের এই স্মার্টফোনটি যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে তা এই বাজেটের অন্যান্য মোবাইল থেকে বেশ ভালোই বলা যায়। এই মোবাইল কল অফ ডিউটি মোবাইল কিংবা পাবজি এর মতো গেম লো সেটিংসে ভালোভাবেই খেলতে পারবেন। তবে কিছু শাটারিং থাকবে। কিন্তু পাবজি লাইট কিংবা ফ্রি ফায়ারের মতো গেইম অনায়াসেই ল্যাগিং ছাড়া খেলা যাবে।

৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি থাকার কারণে সাধারণ ব্যবহারে আপনি সহজেই পেয়ে যাবেন ২ দিনের মতো ব্যাকাপ। যদি আপনি হেভি গেমার হয়ে থাকেন, একটানা গেমিংয়ে ১৪ ঘণ্টার ব্যাকাপ পাবেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে। শুধু ইউটিউব ভিডিও বা গান শুনলেও পাবেন পুরো একদিনের বেশি ব্যাকাপ। তবে এই স্মার্টফোনে ফাস্ট চার্জিং সুবিধা না থাকায় বক্সের সাথে দেয়া ১০ওয়াটের চার্জার দিয়ে সম্পূর্ণ ব্যাটারি চার্জ হতে সময় নিবে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। 

ক্যামেরা

ক্যামেরা

এই বাজেটে যেখানে অন্য স্মার্টফোনগুলোতে ডুয়াল ক্যামেরা ছাড়া সচরাচর দেখা যায় না, সেখানে পোকো সি থ্রিতে আপনি পাচ্ছেন ট্রিপল ক্যামেরা। ১৩ মেগাপিক্সেলের প্রাইমারি ক্যামেরা ডাইনামিক মোডে দিচ্ছে সুন্দর ছবি তোলার সুযোগ, ২ মেগাপিক্সেলের ডেপথ ক্যামেরা তোলা যাবে ডিএসএলআরের মতো পেছনে ব্লার করা পোট্রেট ছবি, ২ মেগাপিক্সেলের মাইক্রো ক্যামেরা দিবে জুম করে স্বচ্ছ ছবি তোলার সুযোগ। এই বাজেটে এত সব কিছু একজায়গায় পাওয়া আসলেই অভাবনীয়। ফ্রন্ট ক্যামেরাতে আপনি পাচ্ছেন ৫ মেগাপিক্সেলের ২.২ অ্যাপারচার ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা। ভেসিক ক্যামেরা মোডের সাথে থাকছে এআই ফেইস রেকগনিশন এবং অটো এইচডিআর মোড। উজ্জ্বল আলোতে এইসব ক্যামেরা ব্যবহার করে আপনি ভালো ছবিই তুলতে পারবেন। যদিও লো লাইতে ক্যামেরা তেমন ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি। ১০৮০ পিক্সেলে ৩০ এফপিএস রেটে করতে পারবেন ভিডিও রেকর্ডিংও। 

আমাদের মন্তব্য

পোকো সি থ্রি এই বাজেটে যা দিচ্ছে সেটি যদি অন্যান্য স্মার্টফোনের সাথে তুলনা করা হয় তাহলে বলতে হবে ১১ হাজার ৯৯৯ টাকায় আপনি আসলে অনেকি কিছুই পাচ্ছেন। তবে আপনি যদি হেভি গেমার হয়ে থাকে তাহলে এই মোবাইল ফোনটি না নিতে অনুরোধ থাকবে। যারা দৈনন্দিন ব্যবহারের পাশাপাশি একটি সেকেন্ডারি ফোন হিসেবে ভালো কিছু চাচ্ছেন, পোকো সি থ্রি অনায়াসেই তাদের আশা পূরণ করতে সক্ষম।

Leave a comment