Realme C3 Mobile Phone Review

Realme C3 Mobile Phone Review

বিশ্বের ক্রমবর্ধমান স্মার্টফোনের বাজারে প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করছে একের পর এক মোবাইল ফোন কোম্পানি। প্রতিনিয়তই একের পর এক স্মার্টফোন রিলিজ করছে কোম্পানিগুলো যার ফলে এই প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের বাজারে রিয়েলমি লঞ্চ করেছে তাদের নতুন এন্ট্রি লেভেলের গেমিং ডিভাইস “রিয়েলমি সি থ্রি”, যেটিকে তারা বলছে “দেশের সেরা পছন্দ।” কম বাজেটে লেটেস্ট সব ফিচার এবং প্রযুক্তি নিয়ে রিলিজ হওয়া রিয়েলমি সি থ্রি’তে কি কি থাকছে চলুন দেখে আসা যাক।

একনজরে রিয়েলমি সি থ্রি:

  • নেটওয়ার্ক: থ্রি ও ফোরজি সাপোর্টেড।
  • ওজন: ১৯5 গ্রাম।
  • সিম স্লট: ডুয়াল ন্যানো সিম, ডেডিকেটেড মেমোরি কার্ড স্লট।
  • ডিসপ্লে: আইপিএস এলসিডি মনিটর।
  • প্রসেসর: মিডিয়াটেক হেলিও জি ৭০।
  • গ্রাফিক্স: মালি জি ৫২ ২ইইএমসি ২।
  • অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন: অ্যান্ড্রয়েড ১০।
  • রিয়ার ক্যামেরা: ট্রিপল, ১২ মেগাপিক্সেল, ২ মেগাপিক্সেল, ২ মেগাপিক্সেল।
  • ফ্রন্ট ক্যামেরা: ৫ মেগাপিক্সেল।
  • ব্যাটারি: ৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার।

বক্স

বক্সের ভেতরে রিয়েলমি সি থ্রি এর সাথে পাবেন মাইক্রো ইউএসবি টাইপ বি কেবল, ১০ ওয়াটের চার্জার অ্যাডাপ্টার, সিম কার্ড নিডল, স্টার্ট গাইড এবং প্রোডাক্ট ইনফরমেশন ডকুমেন্টস।

ভ্যারিয়েন্ট

ফ্রোজেন ব্লু ও ব্লেজিং রেড নামের দুইটি ভিন্ন রঙে ৩টি ভিন্ন ভ্যারিয়েন্টে মার্কেটে পাওয়া যাবে মোবাইলটি। ভ্যারিয়েন্ট তিনটি হচ্ছে, ২ জিবি র‍্যাম ও ৩২ জিবি রম, ৩ জিবি র‍্যাম ও ৩২ জিবি রম, এবং ৪ জিবি র‍্যাম এবং ৬৪ জিবি রম। 

ডিজাইন

ডিজাইন

যদিও রিয়েলমি সি থ্রি দেখতে অনেকটাই রিয়েলমি সি টু এর মতো, কিন্তু ডিজাইনে অনেক বৈচিত্র্য এনেছে রিয়েলমি। নতুন এই ডিজাইনটিকে তারা বলছে “সানরাইজ ডিজাইন”। পলিকার্বোনেট প্লাস্টিক বডির এই স্মার্টফোনের সামনে ব্যবহার করা হয়েছে শক্তিশালী গরিলা গ্লাস ৩। এছাড়াও পেছনে দেয়া হয়েছে প্লাস্টিকের ফিনিশিং। ৬.৫ ইঞ্চির অধিকারী এই মোবাইলের উপরের মাঝ বরাবর রয়েছে ওয়াটার ড্রপ নচ। ২০:৯ এসপেক্ট রেশিওর মোবাইল হওয়ায় স্মার্টফোনটি দেখতে লম্বাটে কিন্তু স্লিম। সাইডের বেজেলগুলোও খুব চিকন। উপরের ডিউ ড্রপ নচের ভেতরে থাকছে সেলফি ক্যামেরা এবং তার উপরে থাকছে কালো এয়ারপিস যেটি ডিসপ্লের সাথে ব্লেন্ড করে দেয়া হয়েছে। ভলিউম বাটন থাকছে বাম দিকে এবং পাওয়ার বাটন থাকছে ডান দিকে, যা সহজেই মোবাইল টিকে একহাতে ব্যবহার করার সুবিধা দেয়। সিমস্লটটি থাকছে বামদিকের ভলিউম বাটনের নিচে। যেখানে দুইটি ন্যানো সিমকার্ডের সাথে একটি মাইক্রোএসডি কার্ডও ব্যবহার করা যাবে সি থ্রিতে। নিচের দিকে থাকছে একটি ৩.৫ মিলিমিটার অডিও পোর্ট এবং মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট। ৫০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের বিশাল ব্যাটারি নিয়ে স্মার্টফোনটির ওজন দাড়িয়েছে মাত্র ১৯৫ গ্রাম যা সত্যি খুব ভালো একটি দিক।

সফটওয়্যার

অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে থাকছে অ্যান্ড্রয়েড ১০। ইউজার ইন্টারফেইসে পরিবর্তন এনেছে রিয়েলমি। তাদের নিয়মিত ইন্টারফেস কালারওএস এর পরিবর্তে থাকছে রিয়েলমির নতুন ইউআই রিয়েলমি ইউ আই ১.০। যদিও রিয়েলমির নতুন এই ইন্টারফেস অনেকটা তাদের আরেক ইন্টারফেস কালারওএসের ভার্সন ৭ এর মতোই কিছুটা। অনেকটা স্টক অ্যান্ড্রয়েডের উপর বেইস করেই এই ইউজার ইন্টারফেস তৈরি করেছে রিয়েলমি। 

স্পেসিফিকেশন

যেহেতু এন্ট্রি লেভেল গেমিং ডিভাইস হিসেবে রিয়েলমি সি থ্রিকে মার্কেটে এনেছে, তাই সেখানে থাকছে শক্তিশালী বাজেট গেমিং চিপসেট মিডিয়াটেক হেলিও জি ৭০ যার ক্লকস্পিড ২.০ গিগাহার্জ। ১২ ন্যানোমিটার অক্টাকোর এই প্রসেসরটি গেমিং ফোকাসড হওয়ায় সি থ্রি দিয়ে যেকোনো গেম খেলা যাবে খুব স্মুথলি। প্রথম দুটি কোর করটেক্স এ ৭৫ যার ক্লকস্পিড ২.০ গিগাহার্জ, ১.৭ গিগাহার্জ ক্লকস্পিডে চলা অপর ৬টি কোর হচ্ছে করটেক্স এ ৫৫ কোর। 

মোবাইলটিতে দেয়া হয়েছে ৯০হার্জ রিফ্রেশ রেট ক্ষমতাসম্পন্ন আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে যেটি এইচডি সাপোর্টেড। ৫০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারির এই মোবাইলটি সাধারন ব্যবহারে দিবে প্রায় ৪০ ঘণ্টা ব্যাকআপ সুবিধা। আর ননস্টপ পাবজি খেললে পাওয়া যাবে প্রায় ১১ঘন্টার মতো ব্যাটারি ব্যাকাপ। আর অনলাইন মুভি একটানা স্ট্রিমিং করলে পাবেন প্রায় ২১ ঘণ্টার মতো ব্যাকাপ। বক্সের সাথে থাকছে ১০ওয়াটের একটি চার্জার যেটি দিয়ে প্রায় আড়াই ঘন্টার মধ্যে চার্জ করা যাবে সম্পূর্ণ ব্যাটারি।

পারফরম্যান্স

১৯২,১৭৮ অ্যান্টুটু বেঞ্চমার্ক স্কোর নিয়ে ভালো অবস্থানেই রয়েছে রিয়েলমির এই মোবাইলটি। পেছনে ফেলছে রিয়েলমি ৫এস, শাওমি রেডমি এইট এ’এর মতো মোবাইলকেও। সিংগেল কোর গিগবেঞ্চে ৩৭৪ স্কোর নিয়ে এগিয়ে রয়েছে শাওমির রেডমি নোট এইট থেকে। অক্টাকোর প্রসেসর ও “Mali-G52 2EEMC2” প্রসেসর থাকায় পাবজির মতো গেমও ডিফল্ট মোডে হাই গ্রাফিক্সে খেলা যাবে। কল অফ ডিউটি কিংবা অ্যাসফাল্ট ৯ ও খেলতে পারবেন ভালোভাবেই। অর্থাৎ এন্ট্রি বাজেটে সেরা গেমিং বাজেট বলা যায় এটিকে। কিন্তু র‍্যাম ইউজার ফ্রেন্ডলি না হওয়ায় মাল্টিটাস্কিং এ কিছুটা প্রবলেম হতে পারে।

ক্যামেরা

ক্যামেরা

যদিও এন্ট্রিলেভেলের স্মার্টফোন তবুও ক্যামেরার দিকে কৃপণতা দেখায়নি রিয়েলমি। পেছনে থাকছে এই প্রযুক্তি সম্পন্ন ট্রিপল ক্যামেরা যার প্রাইমারি ক্যামেরা হচ্ছে ১২ মেগাপিক্সেল ও ৪ গুণ জুমের ক্ষমতা সম্পন্ন। সেকেন্ডারি ২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা দিবে ডেপথ সেন্সর ব্যবহার করে ছবি তোলার ক্ষমতা। যার ফলে তোলা যাবে বোকেহ ইফেক্ট সংযুক্ত ছবি। আরো থাকছে ২ মেগাপিক্সেলের মাইক্রো লেন্স। ১০৮০ পিক্সেলে ৩০ ফ্রেম পার রেটে করা যাবে ভিডিও রেকর্ডিং। ক্রোমাবুস্ট ফিচার থাকার কারণে এই ক্যামেরা বাইরে ছবি তোলার জন্যও দিবে বিশেষ সুবিধা।

সামনের দিকে থাকবে ২.৪ অ্যাপারচার ক্ষমতাসম্পন্ন সেলফি ক্যামেরা। যেটি দিয়ে করা যাবে ১০৮০ পিক্সেলের ভিডিও রেকর্ডিং। তোলা যাবে এইচডিআর ইফেক্টের ছবিও।

দুই ক্যামেরাতেই থাকছে টাইম ল্যাপ্স, প্যানারোমা ও এই বিউটিফিকেশনের সুবিধা।

সেন্সর

অন্যান্য স্মার্টফোনের মতোই এতে ব্যবহার করা হয়েছে এক্সেলেরোমিটার, প্রক্সিমিটি এবং কম্পাসের মতো আধুনিক সেন্সর। পেছনের দিকে থাকছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের সুবিধা। নেটওয়ার্ক সেকশনে থাকছে Wi-Fi 802.11, ব্লুটুথ ৫, জিপিএস এবং এফএম রেডিও।

মূল্য

ঠিক এ জায়গাতে এসেই রিয়েলমি সবার থেকে এগিয়ে গেছে। এতসব ফিচার ও প্রযুক্তিসম্পন রিয়েলমি সি থ্রি’এর দাম ধরা হয়েছে মাত্র ১০,৯৯০ টাকা, তাও অফিসিয়ালি। এন্ট্রি লেভেলের এই বাজেট মোবাইলে আপনি পাচ্ছেন হাই স্পেসিফিকেশনের স্মার্টফোনের মতোই সকল সুযোগ সুবিধা। পারফরম্যান্সে হারিয়ে দিচ্ছে অনেক মিড লেভেলের স্মার্টফোনকেও। দূর্দান্ত গেমিং পারফরম্যান্স ও ক্যামেরা নিয়ে ফেব্রুয়ারিতে রিলিজ হওয়া রিয়েলমি সি থ্রি ইতিমধ্যে মার্কেটে সবথেকে বেশি বিক্রিত স্মার্টফোনের তকমাও গায়ে মেখে ফেলছে। এন্ট্রি লেভেলের এই স্মার্টফোনটি পাওয়া যাচ্ছে রিয়েলমি অথোরাইজড সকল মোবাইল স্টোরে এবং দারাজ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন অনলাইন স্টোরে।

Leave a comment