Huawei Nova 2i Mobile Phone Review

huawei-nova-2i-mobile-phone-review

২০১৭ সালে বড়বড় মোবাইল কোম্পানীগুলো ১৮:৯ রেশিওর ডিসপ্লের ট্রেন্ড চালু করেছে। কিন্তু তারা সবথেকে বড় সমস্যার মুখোমুখি ফুল ওয়াইড ডিসপ্লের ইউজার এক্সপেরিয়েন্স নিয়ে। মিডরেঞ্জ বাজেটে যখন বেশি বেজেলের মোবাইলের ছড়াছড়ি তখনই হুয়াওয়ে মার্কেটে লঞ্চ করেছে তাদের বেজেললেস ট্যাগ দেয়া নতুন স্মার্টফোন হুয়াওয়ে নোভা টু আই। চাইনিজ মার্কেটে এটি মাইম্যাং ৬ এবং ভারতের মার্কেটে এটি হনর ৬ আই নামে রিলিজ করা হয়েছে। বিশাল স্ক্রিন এবং প্রায় বেজেললেস ডিসপ্লে হওয়ায় বেশ ভালোভাবেই মার্কেট দখল করার সামর্থ্য আছে হুয়াওয়ের এই মোবাইল ফোনটি। মিডরেঞ্জের বাজেটে স্যামসাং ও এলজির মতো প্রায় ফ্ল্যাগশিপ ফিচার নিয়ে মার্কেটে আসা হুয়াওয়ে নোভা টু আই নিয়ে থাকছে আমাদের আজকের বিস্তারিত আলোচনা।

ফিচারস

  • নেটওয়ার্ক: ৩জি ও ৪জি সাপোর্টেড।
  • ওজন: ১৬৪ গ্রাম।
  • সিম স্লট: ডুয়াল ন্যানো সিম।
  • প্রসেসর: হাইসিলিকন কিরিন ৬৫৯
  • গ্রাফিক্স: এআরএম মালি টি ৮৩০ এমপি ২।
  • অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন: অ্যান্ড্রয়েড ৭.০।
  • রিয়ার ক্যামেরা: ডুয়াল ক্যামেরা, ১৬ মেগাপিক্সেল + ২ মেগাপিক্সেল।
  • ফ্রন্ট ক্যামেরা: ডুয়াল ক্যামেরা, ১৩ মেগাপিক্সেল + ২ মেগাপিক্সেল।
  • ব্যাটারি:.৩৩৪০ মিলি অ্যাম্পিয়ার।

বক্স

হুয়াওয়ে নোভা টু আই এর সাথে বক্সের ভেতরে পাচ্ছেন ইউজার ম্যানুয়াল, ওয়ারেন্টি কার্ড, একটি এয়ারফোন, একটি মোবাইল কাভার, একটি মাইক্রো ইউএসবি টাইপ বি কেবল এবং একটি চার্জার অ্যাডাপ্টার।

ভ্যারিয়েন্ট

কালো, নীল এবং সোনালি তিনটি ভিন্ন ভিন্ন রঙে পাওয়া ৪ জিবি ও ৬৪ জিবি রমের একটি মাত্র ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে হুয়াওয়ের এই মোবাইলটি। দাম ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ৯৯০ টাকা মাত্র।

ডিজাইন

ডিজাইন

হুয়াওয়ে নোভা ২ আই দেখতে অনেকটাই হুয়াওয়ে পি ১০ এর মতো, কিন্তু এটি তার থেকে বেশি স্লিম এবং সিম্পলের মধ্যে প্রিমিয়াম লুক দিয়েছে। ৫.৯ ইঞ্চি সাইজের এই মোবাইল পুরোটাই মেটাল বডি। ১৮ঃ৯ আসপেক্ট রেশিও এবং ৮৩ শতাংশ স্ক্রিন টু বডি রেশিও হওয়ার ফলে ৫.৫ ইঞ্চির স্ক্রিন ডিসপ্লে উপভোগ করতে পারবেন আপনি। ফুল এইচডি প্লাস ডিসপ্লে হওয়ার কারনে আপনি পাবেক এক্যুরেট কালার আউটপুট। এই প্রাইস রেঞ্জের এখনকার মোবাইলগুলোর মধ্যেও তেমন একটা ফুল এইচডি প্লাস রেজুলেশনের স্ক্রিন পাওয়া যায় না। সরাসরি সূর্যের আলোর নিচে ভালোভাবেই ব্যবহার করা যাবে এটি। স্ক্রিনের সুরক্ষার জন্য থাকছে কর্নিং গরিলা গ্লাস ৩ এর প্রটেকশন। ৭.৫৫ মিলিমিটার থিকনেসের এই মোবাইলটির ওজন প্রায় ১৬৪ গ্রাম যা খুব ভালো একটি দিক।

স্মার্টফোনটির ডানদিকে পাচ্ছেন ভলিউম কন্ট্রোল বাটন এবং পাওয়ার বাটন, নিচের দিকে থাকছে ৩.৫ মিলিমিটার অডিও পোর্ট, প্রাইমারি মাইক্রোফোন, লাউড স্পিকার এবং মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট। উপরের দিকে থাকছে নয়েজ ক্যান্সেলিং মাইক্রোফোন এবং বামদিকে থাকবে সিম স্লট। পেছনের দিকে ডুয়াল ক্যামেরার নিচের দিকে থাকছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার এবং ডুয়াল ক্যামেরার উপরের দিকে থাকছে এলইডি ফ্ল্যাশ লাইট।

সফটওয়্যার

অপারেটিং সফটওয়্যার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যান্ড্রয়েড ৭.০ নোগাট। ইউজার ইন্টারফেইসে থাকছে হুয়াওয়ে কাস্টমাইজড ইন্টারফেইস EMIUI ৫.১। এই মোবাইলর হোমস্ক্রিন আপনি দুইভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। একটি হচ্ছে অ্যাপ ড্রয়ারের মতো, টিপিক্যাল অ্যান্ড্রয়েড হোম স্ক্রিন যেরকম হয় আরকি। আরেকটি হচ্ছে আইওএসের মতো অ্যাপ আইকন হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবেন।

স্পেসিফিকেশন

১৬ ন্যানোমিটার আর্কিটেকচার টেকনোলজিতে তৈরি হাই সিলিকিন কিরিন ৬৫৯ অক্টাকোর প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে নোভা টু আই তে। প্রসেসরটিতে থাকা আটটি কোর করটেক্স এ ৫৩ কোর, যার চারটি সর্বোচ্চ ২.৩৬ গিগাহার্জ ও বাকি চারটি ১.৪ গিগাহার্জ ক্লকস্পিডে চলবে। সাথে ব্যবহার করা হয়েছে মালি টি ৮৩০ জিপিইউ। একই ধরণের জিপিইউ ব্যবহার করা হয়েছে হুয়াওয়ের অন্য একটি স্মার্টফোন জিআর ৫ এবং স্যামসাং এর মোবাইল ফোন গ্যালাক্সি জে সেভেন প্রো’তে।

৪ জিবি র‍্যাম এবং ৬৪ জিবি রমের এই মোবাইল ফোনটি ১২.৫ জিবি বরাদ্ধ রয়েছে স্মার্টফোনটির নিজস্ব ফার্মওয়্যারের জন্য। ফলে ব্যবহারকারীরা প্রায় ৫১ জিবি খালি পাবেন নিজেদের ব্যবহারের জন্য। কেউ চাইলে মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহার করে মেমোরি সুবিধা ২৫৬ জিবি পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারবেন।

স্মার্টফোনটিতে পাওয়ারের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে লিথিয়াম আয়নের ৩৩৪০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি। পাওয়ার অপ্টিমাইজড প্রসেসর ব্যবহারের ফলে দৈনন্দিন ব্যবহারে প্রায় একদিনের মতো ব্যাটারি ব্যাকাপ পাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। কিন্তু ফার্স্ট চার্জিং সাপোর্টেড না হওয়ায় এর সাথে দেয়া ২ ভোল্টের চার্জার দিয়ে এটি ফুল চার্জ হতে সময় লাগবে প্রায় ২ ঘণ্টা থেকে আড়াই ঘণ্টা।

কানেক্টিভিট হিসেবে থাকছে ৪জি VoLTE সাপোর্ট, হাইব্রিড ডুয়াল ন্যানো সিম ব্যবহারের সুবিধা, ওয়াই ফাই 802.11 b/g/n, ব্লুটুথ ৪.২, জিপিএস। তবে থাকছে না এনএফএস সুবিধা। সেন্সর হিসেবে পাবেন Compass/ Magnetometer, Proximity sensor, Accelerometer, Ambient light sensor এবং Gyroscope সেন্সর।

পারফরম্যান্স

এবার আশা পারফরম্যান্সে। মিড বাজেটের এই স্মার্টফোনটি সিনথেটিক অ্যান্টুটু বেঞ্চমার্কে স্কোর তুলেছে ৬২,৯৬৪ যা আসুসের জেনফোন ৩ এর সমান এবং স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এস সিক্সের স্কোরের কাছাকাছি। গিকবেঞ্চের সিঙ্গেল কোরে স্কোর করেছে ৯২০ এবং মাল্টি কোরে ৩৬৩৬। 

যদিও এর চিপসেটটি কোনো গেমিং চিপসেট নয় তবুও এতে অ্যাসফাল্ট ৮ এর মতো গেম খুব সহজে কোনো ধরনের ল্যাগিং ছাড়াই খেলতে পারবেন।

ক্যামেরা

হুয়াওয়ের নোভা টু আই হুয়াওয়ের প্রথম স্মার্টফোন যেখানে তারা কোয়াড ক্যামেরা সেটাপ ব্যবহার করেছে। যার দুইটি ফ্রন্ট ক্যামেরা এবং দুইটি রিয়ার ক্যামেরা।

১৬ মেগাপিক্সেলের প্রাইমারি ক্যামেরা দিয়ে আপনি ১০৮০ পিক্সেলে ১৬ঃ৯ রেশিও তে আপনি ফুল রেজুলেশনের ছবি তুলতে পারবেন। ১৮ঃ৯ রেশিও দিয়ে ছবি তুলতে চাইলে সর্বোচ্চ ১১ মেগাপিক্সেলের সাপোর্ট পাবেন। এই ক্যামেরা দিয়ে র ফরম্যাটেও ছবি তুলতে পারবেন আপনি। সেকেন্ডারি ক্যামেরা ডেপথ সেন্সর হিসেবে কাজ করবে। ফলে ডিএসএলআরের মতো পোট্রেট মুডেও তুলতে পারবেন সুন্দর সুন্দর ছবি। ২.২ অ্যাপার্চারে ফুল এইচডি ১০৮০ পিক্সেলের রেজুলেশনে ৩০ এফপিএসে করা যাবে ভিডিও রেকর্ডিংও। ৪কে’তে রেকর্ডিং সুবিধা না থাকলেও আপনি ৪৮০ পিক্সেল রেজুলেশনে স্লো মোশনে ভিডিও রেকর্ডিং করতে পারবেন, পাবেন টাইপ ল্যাপস ও লাইট পেন্টিং মোডের সুবিধাও। ডাইনামিক রেঞ্জে ছবি তুলতে গেলে বেশ ভালো কোয়ালিটির ছবিই পাবেন এই ক্যামেরা দিয়ে। 

ফ্রন্টে থাকছে ২.০ অ্যাপার্চারের ১৩ মেগাপিক্সেলের একটি ক্যামেরা ও ২ মেগাপিক্সেলের সেকেন্ডারি ক্যামেরা যেটি ডেপথ সেন্সর। সাথে রয়েছে এলইডি ফ্ল্যাশ লাইটও। ফলে সেলফিতে আপনি সুন্দরভাবে পোট্রেট ছবি তুলতে পারবেন।

আমাদের মন্তব্য

স্মার্টফোনটি মূলত কাদের জন্য? যারা ফটোগ্রাফি করতে ভালোবাসেন তাদের জন্য পারফেক্ট একটি মোবাইল হতে পারে এটি। তবে দেখে মনে হচ্ছে হুয়াওএ এটিকে এক্সপেরিমেন্টাল ফোন হিসেবেই মার্কেটে নিয়ে এসেছে। যার সাথে রয়েছে ফুল এইচডি প্লাস রেজুলেশনের স্ক্রিন, কোয়াড ক্যামেরা সেটাপ ফিচার, যেটি এটিকে মিড বাজেটের ফ্ল্যাগশিপ রেঞ্জে নিয়ে গিয়েছে। তবে সাথে যদি টাইপ সি পোর্টের সুবিধা থাকতো আর ব্যাটারির ক্ষমতা আরেকটু বাড়াতে পারতো হুয়াওয়ে তাহলে মিড বাজেটের রেঞ্জে অনবদ্য এক স্মার্টফোন পেতো স্মার্টফোন লাভাররা।

Leave a comment