Apple iPhone X Mobile Phone Review

Apple iPhone X Mobile Phone Review

২০১৭ সালের মোবাইল ফোনের আলোচনায় সবথেকে বেশি যে নামটি এসেছে সেটি হচ্ছে অ্যাপলের আইফোন এক্স বা আইফোন ১০। ২০১৭ সালেই অ্যাপলের এই আইফোন সিরিজ পা রাখে তাদের দশ বছর পূর্তিতে। সেজন্য অ্যাপল ফ্যানদের সবারই আশা ছিল নিশ্চয়ই অ্যাপল তাদের নতুন স্মার্টফোন আইফোনের দশম ভার্সনে নিয়ে আসবে অনেক চমক। এদিক থেকে ফ্যানদের মোটেই আশাহত করেনি আমেরিকাভিত্তিক এই কোম্পানিটি। ‘দ্যা ফিউচার অফ দ্যা স্মার্টফোন’ নামে বেশ কিছু নতুন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে রিলিজ করে আইফোন এক্স যা স্মার্টফোনের বাজারে সাড়া ফেলে দেয়। আইফোন সবসময় তার গ্রাহকদের মন জয় করে নিয়েছে পারফরম্যান্স দিয়ে। তাই যারাই জীবনে কখনো আইফোনের স্বাদ পেয়ে গিয়েছে তারা আর অন্য কোনোদিকে ঘুরেও তাকায়নি। আমাদের আজকের আলোচনায় থাকবে অ্যাপলের আইফোন এক্স যা মার্কেটে অ্যাপল আইফোন ১০ নামেও পরিচিত।

ফিচারস

  • নেটওয়ার্ক: GSM / HSPA / LTE
  • ওজন: ১৭৪ গ্রাম
  • সিম স্লট: ন্যানো সিম
  • ডিসপ্লে: সুপার রেটিনা ওলেড ডিসপ্লে
  • প্রসেসর: অ্যাপল এ ১১ বায়োনিক
  • গ্রাফিক্স: অ্যাপল জিপিউ
  • অপারেটিং সিস্টেম: আইওএস ১১.১.১
  • রিয়ার ক্যামেরা: ডুয়াল ক্যামেরা। ১২ মেগাপিক্সেল ও ১২ মেগাপিক্সেল।
  • ফ্রন্ট ক্যামেরা: ৭ মেগাপিক্সেল।
  • ব্যাটারি: ২৭১৬ মিলি অ্যাম্পিয়ার।

বক্স

আইফোন বক্সের ভেতরে আপনি পেয়ে যাবেন একটি লাইটিং ইউএসবি কেবল, ৫ ওয়াটের একটি চার্জার, একটি এয়ারপড ওয়ারড এয়ারফোন এবং একটি লাইটিং টু ৩.৫৫ মিমি হেডফোন অ্যাডাপ্টার।

ভ্যারিয়েন্ট

স্পেস গ্রে এবং সিলভার এই দুইটি কালারের দুইটি ভ্যারিয়েন্টে মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে আইফোন। একটি ভ্যারিয়েন হচ্ছে ৩ জিবি র‍্যাম এবং ৬৪ জিবি রম, অপরটি হচ্ছে ৩ জিবি র‍্যাম এবং ২৫৬ জিবি রম।

ডিজাইন

Apple iPhone X

আইফোন মানেই প্রিমিয়াম লুকিং। আইফোন এক্সের ডিজাইনও তার বাইরে নয়। পুরানো আইফোনের থেকে অনেক পরিবর্তন এসেছে এতে। প্লাস্টিক প্যানেলের বদলে পেছনে দেয়া হয়েছে গ্লাস প্যানেল। সাইডে ব্যবহার করা হয়েছে স্টেইনলেস স্টিল। আইফোন ৮ এর থেকে আকারে কিছুটা বড় হলেও ৫.৮ ইঞ্চি ডিসপ্লের সাথে খুব সুন্দরভাবেই মানিয়ে নিয়েছে এর ডিজাইন। ২৪৩৬ x ১১২৫ পিক্সেল রেজুলেশনের এই ডিসপ্লের পিক্সেল ডেনসিটি ৪৫৮ পিপিআই। আসপেক্ট রেশিওতে এসেছে পরিবর্তন। নতুন নতুন মার্কেটে আসা মোবাইলগুলোর মতো এরও রেশিও রাখা হয়েছে ১৯.৫ঃ৯। ডিসপ্লেতে ব্যবহার করা হয়েছে সুপার রেটিনা ওলেড ডিসপ্লে যা এইচডিআর ১০ সাপোর্টেড। আর আইফোনের ডিসপ্লের বড় সুবিধা হলো এতে আপনি পাবেন ট্রু কালার আউটপুট। সামনের এবং পেছনের গ্লাস প্যানেল প্রটেকশনের জন্য থাকছে কর্নিং গরিলা গ্লাস প্রটেক্টর। এছাড়াও রয়েছে ডলবি ভিশন, ওয়াইড কালার গ্যামাট  এবং থ্রিডি টাচ। ডিসপ্লের উপরের দিকে রয়েছে সুবিশাল নচ যেখানে থাকছে ফ্রন্ট ক্যামেরা।

মোবাইলটি আইপি ৬৭ ডাস্ট/ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট। ফলে একনাগাড়ে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট পর্যন্ত পানির দ্বারা কোনোরূপ ক্ষতি থেকে মোবাইল ফোনটি সুরক্ষিত থাকবে।

স্মার্টফোনটির বামদিকে থাকছে আইফোনের ম্যুট বাটন, এবং ভলিউম বাটন। ডানদিকে থাকছে মাল্টি ফাংশনাল পাওয়ার বাটন এবং পাওয়ার বাটনের নিচে থাকছে সিম স্লট। নিচের দিকে থাকছে লাইটনিং পোর্ট, এবং ডাবল স্পিকার।

স্পেসিফিকেশন

আইফোন এক্সে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাপলের নিজস্ব প্রসেসর। অ্যাপলের নিজস্ব প্রযুক্তিতে ১০ ন্যানো মিটার আর্কিটেকচার টেকনোলজিতে তৈরি প্রসেসরটির নাম অ্যাপল এ ১১ বায়োনিক প্রসেসর। এটি ২.৩৯ গিগাহার্জ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ৬৪ বিট এআরএম বেইসড হেক্সাকোর প্রসেসর। অর্থাৎ এতে মোট ৬টি প্রসেসর আছে যার চারটি হাই এনার্জি এফিসিয়েন্ট মিস্ট্রাল কোর এবং দুইটি হাই পারফরম্যান্স মনসুন কোর। একই ধরনের প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাপল ৮ এবং অ্যাপল ৮ প্লাস’এ। এ ১১ কোরটি অ্যাপলের পূর্ববর্তী কোর অ্যাপল এ ১০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি হাই পারফরম্যান্স এবং ৭০ শতাংশ বেশি পাওয়ার এফিসিয়েন্সি দেখিয়েছে। এ ১১ একটি সেকেন্ড জেনারেশন কোর হওয়ায় এর ৬টি কোর একসাথে কাজ করতে পারে। গ্রাফিক্স সেকশনে রয়েছে অ্যাপলের নিজস্ব তিন কোর বিশিষ্ট একটি গ্রাফিক চিপসেট। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৩ জিবি এলপিডিডিআর ৪ র‍্যাম যা এ ১০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি পারফরম্যান্স প্রদান করতে সক্ষম।

সফটওয়্যার

সফটওয়্যার হিসেবে পাচ্ছেন সুপার অপ্টিমাইজড আইওএস ১১.১.১। কিন্তু আপনি চাইলে এটিকে আইওএস ১৩তেও আপগ্রেড করতে পারবেন। এছাড়াও এনএফসি সাপোর্টেড হওয়ায় আপনি অ্যাপল পে ব্যবহার করতে পারবেন খুব সহজে। থাকছে অ্যাপলের নিজস্ব অ্যাপল ম্যাপ ব্যবহারের সুবিধা এবং ডার্ক মোড।

পারফরম্যান্স

অ্যাপলের আইফোন সিরিজ মার্কেটে সব থেকে বেশি পরিচিত এর পারফরম্যান্সের জন্য। ব্যবহৃত এ ১১ প্রসেসরটি একসাথে হাই পারফম্যান্স এবং পাওয়ার এফিসিয়েন্সি হওয়ায় দিবে সুন্দর এক্সপেরিয়েন্স। ঠিক এই কারণেই ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলো থেকে আইফোনে আশা মানুষগুলো আর অ্যান্ড্রয়েডে ফিরে যেতে চান না। অ্যান্টুটু ব্যাঞ্চমার্কে আইফোন এক্সের স্কোর ২৩৩,১০০। আর গিগবেঞ্চ ৪ এর মাল্টিকোর টেস্টে স্কোর করেছে ১০২১৫ যা ২০১৭ সালে রিলিজ হওয়া অ্যান্ড্রয়েডের ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের স্মার্টফোনগুলোরও দ্বিগুণ। সিঙ্গেল কোর টেস্টেও পেয়েছে ৪১২১ এর মতো ভালো একটি স্কোর। আর যেকোনো ধরনের হাই গ্রাফিক্সের গেম আপনি এতে খেলতে পারবেন খুব সহজে কোনো প্রকারের ল্যাগ ছাড়াই।

বিভিন্ন ধরনের গেসচার ফিচার অ্যাড করার ফলে আইফোন এক্স ব্যবহারকারীদের জন্য অনেক সুবিধা নিয়ে এসেছে। আর সেই সাথে ফেইস আইডি নামে নতুন একটি ফিচারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে অ্যাপল। যার ফলে আপনি সহজেই আপনার চেহারা দিয়েই মোবাইলটি আনলক করতে পারবেন, যা লো লাইটেই ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। 

এবার আসা যাক ব্যাটারিতে। ব্যাটারি সেকশনে থাকছে নন রিমুভাল লিথিয়াম আয়নের ২৭১৬ মিলি অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি। দেখতে কম মন হলেও পাওয়ার এফিসিয়েন্ট প্রসেসরের কারণে আপনি এতে শুধুমাত্র টকটাইম ব্যাটারি ব্যাকাপই পাবেন প্রায় ২১ ঘণ্টা। আর একটানা গান বাজারে পাবেন ৬০ ঘণ্টারও বেশি ব্যাটারি ব্যাকাপ। এছাড়া ১৫ ওয়াটের ফাস্ট চার্জিং সাপোর্টেড হওয়ায় মোবাইলের সাথে দেয়া চার্জার দিয়ে আপনি মাত্র ৩০ মিনিটেই ৫০ শতাংশের বেশি চার্জ করে ফেলতে পারবেন।

ক্যামেরা

ক্যামেরা

সবশেষে থাকছে ক্যামেরা সেকশন। আইফোনের ক্যামেরা মানেই অনেককিছু। প্রায় সবধরনের ফিচারই এতে অ্যাভেইলেবল থাকে। পেছনে থাকছে ১.৮ ও ২.৪ অ্যাপার্চার ক্ষমতা সম্পন্ন দুইটি ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। এ দুইটি ক্যামেরাতেই প্রায় সবধরনের সেন্সর ইন্টিগ্রেড করে দেয়া হয়েছে। ১.৮ অ্যাপার্চার ক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরাটি একসাথে ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ক্যামেরা হিসেবে কাজ করবে। আর ২.৪ অ্যাপার্চার ক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরাটি কাজ করবে টেলিফটো লেন্স হিসেবে। ফলে লো লাইটেও আপনি পাবেন অসম্ভব সুন্দর ছবি। 

সামনের দিকে ব্যবহার করা হয়েছে ৭ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা যেটি একইসাথে সেন্সর হিসেবেও কাজ করবে। 

৬০ এফপিএস রেটে করতে পারবেন ৪কে পিক্সেল রেজুলেশনে ভিডিও রেকর্ডিং। ১০৮০ পিক্সেলের ২৪০ এফপিএসে করা যাবে স্লো মোশন ভিডিও রেকর্ডিংও।

ক্যামেরা ফিচার হিসেবে থাকছে কোয়াড এলইডি ফ্ল্যাশ, এইচডিআর এবং প্যানোরোমা। 

আমাদের মন্তব্য

যারা আইফোনের ফ্যান তারা কখনো আইফোনের স্পেসিফিকেশনের দিকে নজর দেন না। কারণ তারা জানে আইফোন তাদের যা দিবে ভালোই দিবে। আর এইদিক থেকে আইফোন কখনো তার গ্রাহকদের হতাশ করেনি। আর এছাড়াও আপনি যদি ভালো কোনো স্মার্টফোন খুঁজেন যা আপনি খুব সহজে যেকোনোভাবে ব্যবহার করতে চাচ্ছেন তাহলে নিসন্দেহে আইফোন এক্স হবে আপনার জন্য সেরা একটি বাছাই।

Leave a comment